একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করা দেখতে খুব ছোট সিদ্ধান্ত মনে হতে পারে: একটি ইমেইল ঠিকানা, একটি পাসওয়ার্ড, এবং একটি বক্সে টিক চিহ্ন দেওয়া। কিন্তু একই সাথে এটি এমন একটি মুহূর্ত যখন আপনি কোনো কোম্পানিকে আপনার সম্পর্কিত একটি রেকর্ড এবং একটি লগইন দিচ্ছেন যা অন্য মানুষ ভাঙার চেষ্টা করতে পারে। অ্যাকাউন্টের অধিকাংশ সমস্যার শুরু হয় সাইন-আপের সময়, এবং এগুলো পরে সমাধানের চেয়ে শুরুতেই প্রতিরোধ করা অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী।
এই পেজটি ব্যাখ্যা করে যে সাইন-আপ করার সময় আপনি কী কী তথ্য তুলে দিচ্ছেন, অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রধান পদ্ধতিগুলোর তুলনা এবং কীভাবে এগুলোর মধ্য থেকে সঠিক পদ্ধতি বেছে নেবেন। এটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে। তবে পাসওয়ার্ড নির্বাচন, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সেটআপ এবং অ্যাকাউন্ট ডিলিট করার বিষয়গুলো আলাদা পেজে আলোচনা করা হয়েছে।
সহজ কথায় একটি অ্যাকাউন্ট কী
একটি অ্যাকাউন্ট দুটি বিষয়ের সমষ্টি: একটি লগইন (যা প্রমাণ করে আপনিই সেই ব্যক্তি) এবং সার্ভিসটির কাছে থাকা আপনার একটি রেকর্ড। লগইনটি চুরি হতে পারে; আর তাদের কাছে থাকা আপনার রেকর্ডটি লিক হতে পারে, বিক্রি হয়ে যেতে পারে অথবা এমন কাজে ব্যবহৃত হতে পারে যাতে আপনি কখনো সম্মতি দেননি।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো কফি শপের লয়ালটি অ্যাপের কথা ধরা যাক। ছাড় পেতে আপনি আপনার ইমেইল ঠিকানা এবং ফোন নম্বর দেন, এবং অ্যাপটি আপনার কেনাকাটার ইতিহাসও রেখে দিতে পারে। কফি শপটির ডাটাবেস হ্যাক হলে আপনার ব্যাংকে ব্যবহৃত ইমেইলের সাথেই যুক্ত এই সমস্ত তথ্য অন্য বাকি সব তথ্যের সাথে বাইরে লিক হয়ে যাবে।
সাইন-আপ করার সময় কী ভুল হতে পারে
ডেটা ব্রিচ বা তথ্য লিক হওয়া হলো সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। ২০২৫ সালে এফবিআই-এর ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টার (IC3) মোট ৬৭,৪৫৬টি ব্যক্তিগত তথ্য লিকের অভিযোগ পেয়েছে, যা ভলিউমের দিক থেকে চতুর্থ সর্বোচ্চ ছিল। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ডেটা এবং এতে কেবল জমা পড়া অভিযোগগুলোই গোনা হয়েছে। একবার ইমেইল ঠিকানা লিক হয়ে গেলে তা আক্রমণকারীদের টার্গেট লিস্টে পরিণত হয়। প্রাইভেসি গাইডস (Privacy Guides) উল্লেখ করে যে হ্যাকিংয়ের পর আপনার ব্যবহৃত ঠিকানায় ফিশিং ইমেইল এবং স্প্যাম আসা শুরু হতে পারে।
একটি সার্ভিসের ডেটা লিক অন্য সার্ভিসগুলোকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। গুগলের অ্যাকাউন্ট হাইজ্যাকিং সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে যে অধিকাংশ আক্রমণই এসেছিল অন্যান্য সাইট থেকে লিক হওয়া পাসওয়ার্ড ব্যবহারকারী অটোমেটেড বট থেকে। একটি ছোট সাইটে ব্যবহৃত দুর্বল বা একই পাসওয়ার্ড আপনার অন্য সমস্ত অ্যাকাউন্টের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। সাধারণ ডিজিটাল হুমকি (Common threats) পেজে এটি বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সার্ভিসটি নিজেও আপনার দেওয়া তথ্যের অপব্যবহার করতে পারে। ইউএস ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) অভিযোগ করেছিল যে ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টুইটার “আপনার অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করুন”—এমন দাবি করে মানুষের কাছ থেকে ফোন নম্বর এবং ইমেইল ঠিকানা নিয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞাপনদাতাদের টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য তা ব্যবহার করতে দিয়েছিল। FTC-এর মতে, ১৪০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী এতে প্রভাবিত হয়েছিলেন। মামলা নিষ্পত্তিতে টুইটার ২০২২ সালে ১৫০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দেয় এবং তাদের এমন টু-ফ্যাক্টর অপশন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে ফোন নম্বরের প্রয়োজন হয় না। টুইটার বলেছিল যে এই ব্যবহারটি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল এবং তারা কখনোই সরাসরি বিজ্ঞাপনদাতাদের সাথে বিস্তারিত শেয়ার করেনি।
আইন কানুন এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাও (Automation) বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বড় বড় সার্ভিসগুলো স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের ব্যবহারের শর্তাবলী প্রয়োগ করে যা মাঝে মাঝে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। প্রাইভেসি গাইডস উল্লেখ করেছে যে ভিপিএন (VPN) বা ইন্টারনেট-ভিত্তিক ফোন নম্বর ব্যবহার করার কারণে অনেক মানুষের অ্যাকাউন্ট লক করে দেওয়া হয়েছে, এবং আপিল বা পর্যালোচনার ব্যবসথাটিও প্রায়শই স্বয়ংক্রিয় করা থাকে। কিছু সার্ভিস থেকে একাউন্ট ডিলিট করে বেরিয়ে আসা কঠিন, এবং কয়েকটি সার্ভিস আপনার অ্যাকাউন্টের পরিবর্তনের সম্পূর্ণ ইতিহাস রেখে দেয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জেনারেল ডেটা প্রোটাকশন রেগুলেশন (GDPR) সাইন-আপ ফর্মের জন্য একটি দরকারী মানদণ্ড দেয়—এমনকি আপনি ইইউ-তে বাস না করলেও। এর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে ব্যক্তিগত তথ্য পর্যাপ্ত, প্রাসঙ্গিক এবং উদ্দেশ্যের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুর মধ্যেই সীমিত হওয়া উচিত। যদি কোনো ফর্ম সার্ভিসটির কার্যকর হওয়ার জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি তথ্য চায়, তবে সেটিকে উক্ত সার্ভিসের সততা সম্পর্কে একটি সতর্কতা হিসেবে দেখুন।
অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রধান উপায়সমূহ
| পদ্ধতি | আপনি যা শেয়ার করেন | প্রধান ঝুঁকি | যার জন্য উপযোগী |
|---|---|---|---|
| ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড | ইমেইল ঠিকানা বা একটি অ্যালিয়াস | পাসওয়ার্ডের পুনরাবৃত্তি এবং তথ্য লিক হওয়া | অধিকাংশ অ্যাকাউন্টের জন্য |
| বড় প্ল্যাটফর্ম দিয়ে “Sign in with” | নাম এবং ইমেইল, এবং উক্ত প্ল্যাটফর্ম জানতে পারে আপনি সার্ভিসটি ব্যবহার করছেন | একটি অ্যাকাউন্ট লক বা হ্যাক হলে অনেকগুলো অ্যাকাউন্ট প্রভাবিত হয় | সাধারণ বা কম গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস যা আপনি বিশ্বাস করেন |
| ফোন নম্বর | একটি নম্বর যা সার্ভিসগুলোতে আপনার পরিচয় তৈরি করে | ট্র্যাকিং, সিম সোয়াপ, বিজ্ঞাপনী মার্কেটিং | যেসব সার্ভিসের এটি সত্যিই প্রয়োজন |
| কেবল ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড | পরিচয় প্রকাশ করে এমন কোনো তথ্য প্রায় দেওয়া হয় না বললেই চলে | অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের (Recovery) কোনো উপায় থাকে না | যেসব অ্যাকাউন্টে বেনামী বা নামহীন থাকা জরুরি |
| পাসকী (Passkey) | একটি পাবলিক কি, কোনো গোপনীয় পাসওয়ার্ড দেওয়া হয় না | ডিভাইস হারিয়ে গেলে উদ্ধার করা কঠিন | যেসব সার্ভিস এটি সমর্থন করে |
ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড
এটি এখনো অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রাথমিক পদ্ধতি। এর মূল নিয়ম হলো প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, যা বেশিরভাগ মানুষ একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের মাধ্যমে পরিচালনা করেন।
আপনি প্রতিটি সার্ভিসের জন্য আলাদা ইমেইল ঠিকানাও ব্যবহার করতে পারেন। ইমেইল অ্যালিয়াস (Email alias) হলো এমন একটি বিকল্প ঠিকানা যা আপনার আসল ইনবক্সে ইমেইল ফরোয়ার্ড করে দেয়। প্রাইভেসি গাইডস এর তিনটি সুবিধার কথা বলেছে: এটি ইমেইল ঠিকানার মাধ্যমে একাধিক সার্ভিসে আপনাকে ট্র্যাক করা ঠেকায়, এটি অ্যালিয়াস অনুযায়ী মার্কেটিং ইমেইল ফিল্টার করতে দেয়, এবং কোনো সার্ভিস হ্যাক হলে একটি নির্দিষ্ট অ্যালিয়াস দেখে বোঝা যায় কোন সার্ভিস থেকে তথ্য লিক হয়েছে। অ্যাপলের ‘হাইড মাই ইমেইল’ (Hide My Email) এভাবেই কাজ করে। প্রতিটি সার্ভিস একটি র্যান্ডম ঠিকানা পায়, অ্যাপল মেইল ফরোয়ার্ড করে দেয়, এবং প্রেরক কখনোই আপনার আসল ঠিকানা দেখতে পায় না। স্প্যাম আসা শুরু হলে আপনি যেকোনো অ্যালিয়াস বন্ধ করে দিতে পারেন।
এর অসুবিধা হলো নির্ভরশীলতা ও অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার। মেইলগুলো অ্যালিয়াস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সার্ভারের মধ্য দিয়ে যায়, এবং সেই প্রতিষ্ঠান যদি কখনো আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়, তবে অ্যালিয়াসগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। তাই যেসব অ্যাকাউন্ট আপনি হারানোর ঝুঁকি নিতে পারেন না (যেমন আপনার ব্যাংক এবং মূল ইমেইল)—সেগুলোতে আপনার আসল ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করুন।
“Sign in with” বাটনসমূহ
“Sign in with Google”, Apple, Facebook এবং অনুরূপ বাটনগুলো ওপেন অথরাইজেশন (OAuth) নামক একটি প্রোটোকল ব্যবহার করে। আপনি মূল প্ল্যাটফর্মটির কাছে নিজের পরিচয় প্রমাণ করেন, আর নতুন সার্ভিসটি কেবল একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা পায়। আপনার পাসওয়ার্ড শেয়ার করা হয় না। সার্ভিসটি সাধারণত আপনার নাম এবং ইমেইলের মতো মৌলিক বিবরণ পায়, যা সাইন-আপ করার সময় আপনি দেখে নিতে পারেন।
এর সুবিধাসমূহ বাস্তব। আপনি ছোট কোনো অজানা সার্ভিসের নিরাপত্তার বদলে একটি বড় প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী নিরাপত্তার ওপর ভরসা করছেন এবং আপনাকে কম পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হচ্ছে। তবে এর অসুবিধাও রয়েছে। ওই বড় প্রতিষ্ঠানটি জেনে যায় আপনি কোন কোন সার্ভিস ব্যবহার করছেন। আর আপনার মূল অ্যাকাউন্টটি হ্যাক বা লক হয়ে গেলে, তার সাথে যুক্ত সমস্ত সার্ভিস প্রভাবিত হবে। কিছু সাইন-ইন আবার সাধারণ লগইনের চেয়ে বেশি পারমিশন চেয়ে বসে, যেমন আপনার পরিচিতি (Contacts) তালিকা বা আপনার পক্ষ থেকে পোস্ট করার ক্ষমতা; তাই পারমিশন বা অনুমতির তালিকাটি ভালো করে পড়ুন। প্রাইভেসি গাইডস আপনার বিশ্বাসযোগ্য সার্ভিসগুলোর জন্য এই বাটনগুলোকে একটি সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করার এবং মূল অ্যাকাউন্টটিকে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন দিয়ে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেয়।
ফোন নম্বর
সার্ভিসগুলো আপনাকে যাচাই করতে, অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে বা আপনার কাছে পণ্য বিপণন (Marketing) করতে নম্বর চেয়ে থাকে। একটি ফোন নম্বর পাসওয়ার্ডের চেয়ে ভিন্নভাবে একাধিক সার্ভিসে আপনার একক পরিচয় তৈরি করে এবং এটি পরিবর্তন করাও কঠিন। নিরাপত্তার জন্য দেওয়া নম্বরের সাথে কী ঘটতে পারে তা উপরের টুইটারের ঘটনা থেকে বোঝা যায়।
যদি একটি ফোন নম্বর কোনো অ্যাকাউন্ট রক্ষা করে, তবে সিম সোয়াপের মাধ্যমে সেটিতে প্রবেশ করা সম্ভব। সাধারণ ডিজিটাল হুমকি (Common threats) পেজে এটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের জন্য কোনো ভুয়া নম্বর বা ইন্টারনেট-ভিত্তিক (VoIP) নম্বর দিয়ে ফোন নম্বরের চাওয়া এড়ানোর চেষ্টা করবেন না। প্রাইভেসি গাইডস সতর্ক করে যে এটি ফ্রড চেককে সক্রিয় করতে পারে বা আপনাকে লক-আউট করে দিতে পারে, কারণ সার্ভিসগুলো যাচাইকরণের জন্য আপনার নম্বর ব্যবহার করে। কোনো সার্ভিস যদি এর বদলে কোনো অথেনটিকেশন অ্যাপ বা সিকিউরিটি কি-র ব্যবস্থা রাখে, তবে সেটি গ্রহণ করুন।
কেবল ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড
খুব অল্প কিছু সার্ভিস কোনো ইমেইল বা ফোন নম্বর ছাড়াই আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে দেয়। প্রাইভেসি গাইডস বলে যে এগুলো সর্বোচ্চ বেনামী (Anonymity) সুবিধা দেয়, তবে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করার কোনো উপায় থাকবে না। তাই যে অ্যাকাউন্টের তথ্য হারালে আপনি বিপদে পড়বেন, সেগুলোর জন্য এটি উপযোগী নয়।
পাসকী (Passkeys)
পাসকী ক্রিপ্টোগ্রাফিক কি-জোড়ার মাধ্যমে পাসওয়ার্ডের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। FIDO অ্যালায়েন্স (যে প্রযুক্তি সংস্থাটি এই স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করেছে) ব্যাখ্যা করে যে—আপনার ডিভাইস ‘প্রাইভেট কি’ সংরক্ষণ করে এবং সার্ভিসটির কাছে ‘পাবলিক কি’ রেজিস্টার করে, এবং প্রতিটি পাসকী একটি নির্দিষ্ট সার্ভিসের জন্য আলাদা হয়। যেহেতু কোনো শেয়ার করা পাসওয়ার্ড থাকে না, তাই পাসকী ফিশিং এবং পাসওয়ার্ডের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি। আপনি আঙুলের ছাপ, ফেস স্ক্যান, ডিভাইসের পিন বা সিকিউরিটি কি দিয়ে লগইন অনুমোদন করেন।
যে সার্ভিসটি কেবল আপনার পাবলিক কি সংরক্ষণ করে, তাদের ডাটাবেস হ্যাক হলেও আক্রমণকারীর কাছে এমন কিছু থাকে না যা দিয়ে সে আপনার হিসেবে লগইন করতে পারে। তবে এর মূল চ্যালেঞ্জ হলো অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার। আপনি ডিভাইসটি হারিয়ে ফেললে ব্যাকআপ হিসেবে আপনার অন্য কোনো উপায়ের প্রয়োজন হবে—যেমন আপনার ফোন বা কম্পিউটারের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সিঙ্ক হওয়া পাসকী অথবা একটি দ্বিতীয় সিকিউরিটি কি। FIDO অ্যালায়েন্সের ২০২৪ সালের এক জরিপে ৫৩% মানুষ জানিয়েছেন যে তারা অন্তত একটি অ্যাকাউন্টের জন্য পাসকী চালু করেছেন। তবে এমন অনেক সার্ভিসের মুখোমুখি হতে হবে যেগুলোতে এখনো পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন হয়।
ব্যবহারের শর্তাবলী ও প্রাইভেসি পলিসি দেখা
আপনার প্রতিটি শব্দ পড়ার প্রয়োজন নেই এবং প্রায় কেউ তা করে না। দ্রুত নজর বুলাতে এই ৪টি বিষয় দেখুন: সার্ভিসটি কী তথ্য সংগ্রহ করে, এটি বিজ্ঞাপনদাতা বা অন্য থার্ড-পার্টির সাথে ডেটা শেয়ার করে কি না, কত দিন তথ্য সংরক্ষণ করে এবং কীভাবে আপনি আপনার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে পারবেন।
প্রাইভেসি পলিসিতে বলা থাকে কোম্পানিটি কী করবে বলে দাবি করছে। প্রাইভেসি গাইডস উল্লেখ করেছে যে আইনগতভাবে কোম্পানিটি এর দ্বারা কতটা বাধ্য তা আপনার দেশের আইনের ওপর নির্ভর করে। টুইটারের ঘটনাটি দেখায় কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: FTC-এর অভিযোগটি গড়ে উঠেছিল টুইটার নম্বর সংগ্রহের যে কারণ জানিয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা দিয়ে যা করেছিল—তার মধ্যকার পার্থক্যের ওপর।
সাইন-আপ করার আগে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন
এই ধাপগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ থেকে ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে:
১. প্রথমেই ভাবুন আদৌ কোনো অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন আছে কি না: কোনো সাইটে যদি ‘গেস্ট চেকআউট’ (Guest checkout) থাকে এবং আপনি সেখানে পুনরায় না যান, তবে সেটি ব্যবহার করুন।
২. ফর্মটিতে সর্বনিম্ন তথ্য দিন: ঐচ্ছিক (Optional) ঘরগুলো ফাঁকা রাখুন। কোনো সার্ভিস যদি স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ফোন নম্বরের জন্য জোর জবরদস্তি করে, তবে সেটিকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখুন।
৩. পুনরায় ব্যবহার করা যায় না এমন লগইন ব্যবহার করুন: সুযোগ থাকলে পাসকী ব্যবহার করুন। অন্যথায় একটি সম্পূর্ণ নতুন ও অনন্য (Unique) পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
৪. কোন ইমেইল ব্যবহার করবেন তা বেছে নিন: যেসব অ্যাকাউন্ট হারানোর ঝুঁকি নেওয়া যায় সেগুলোতে ইমেইল অ্যালিয়াস এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোতে মূল ইমেইল ব্যবহার করুন।
৫. রিকভারি এবং অ্যালার্ট সেটআপ করুন: ‘হ্যাভ আই বিন পোনড’ (Have I Been Pwned) ওয়েবসাইটে ইমেইল দিয়ে চেক করুন এবং অ্যালার্টের জন্য সাইন-আপ করুন। কোনো লিকের তালিকায় ইমেইল থাকা মানেই আপনি হ্যাক হয়েছেন তা নয়, তবে ওই অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার এটি একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
এর কতটা আপনি প্রয়োগ করবেন তা নির্ভর করে উক্ত অ্যাকাউন্টটি কী রক্ষা করছে তার ওপর—যা নির্ধারণ করতে থ্রেট মডেলিং (Threat modeling) আপনাকে সাহায্য করবে। রান্নার রেসিপি সংক্রান্ত একটি সাইটের চেয়ে অর্থ, স্বাস্থ্য বা পরিচয়ের সাথে যুক্ত অ্যাকাউন্টে অনেক বেশি সতর্কতার প্রয়োজন।
উৎসসমূহ (Sources)
- Account Creation, প্রাইভেসি গাইডস, ২০২৫।
- Twitter apologizes for abusing user security information after $150 million FTC settlement, দ্য রেকর্ড, ২০২২।
- Twitter fined $150M after using 2FA phone numbers for marketing, ম্যালওয়্যারবাইটস, ২০২২।
- Twitter Used People’s Contact Info for Ads. Now It Is Being Fined $150 Million., কনজিউমার রিপোর্টস, ২০২২।
- 2025 Losses to Cybercrime Exceeded $20 Billion, হিপা জার্নাল, ২০২৬ (এফবিআই IC3 ডাটাসমূহ)।
- New research: How effective is basic account hygiene at preventing hijacking, গুগল সিকিউরিটি ব্লগ, ২০১৯।
- Article 5, Principles relating to processing of personal data, জিডিপিআর টেক্সট, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬।
- Should You Opt to ‘Sign in with’ Facebook, Google, Apple?, বিটডিফেন্ডার, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬।
- What is Apple’s “Hide My Email”, সেইলি সাপোর্ট, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬।
- How Does Apple’s Private Email Relay Work?, বার্ড, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬।
- How FIDO works, ফাইডো (FIDO) অ্যালায়েন্স, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬।
- Passkeys, ফাইডো অ্যালায়েন্স, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬।
- Get Breach Notifications, হ্যাভ আই বিন পোনড, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬।
- Tips: How to use Have I Been Pwned?, ভিলানোভা বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬।