একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে নিরাপদ রাখার বেশিরভাগ কাজই যেকোনো কিছু ইনস্টল করার আগেই সম্পন্ন হয়ে যায়। সিস্টেমটি অ্যাপগুলোকে একে অপরের থেকে আলাদা রাখে, চালু হওয়ার সময় নিজের সফটওয়্যার পরীক্ষা করে এবং অ্যাপ আপনার ক্যামেরা বা লোকেশনে প্রবেশের আগে অনুমতি চায়। এই ব্যবস্থাটি আপনার জন্য কতটা কার্যকর হবে তা যেকোনো সেটিংসের চেয়ে একটি বিষয়ের ওপর বেশি নির্ভর করে: আপনার ফোনটি এখনো সিকিউরিটি আপডেট পায় কি না।
এই পেজটিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে অ্যান্ড্রয়েডের ইনবিল্ট বা বিল্ট-ইন সুরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, এগুলো কী থামাতে পারে না, এবং ২০২৬ সালে প্লে স্টোরের বাইরে থেকে অ্যাপ ইনস্টলকারীদের জন্য কী কী পরিবর্তিত হয়েছে। এটি পড়ার পর আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ফোনটি এখনো আপডেট পাচ্ছে কি না এবং কোন কয়েকটি অভ্যাস বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি পার্থক্য তৈরি হয়।
আমরা এখানে প্রাইভেসি-কেন্দ্রিক বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম, গুগলের নিজস্ব সার্ভিসের মাধ্যমে ট্র্যাকিং, বা নির্দিষ্ট ফোনের সুপারিশ কাভার করিনি। এগুলোর প্রতিটির জন্য আলাদা পেজের প্রয়োজন।
সহজ কথায় অ্যান্ড্রয়েড কী
অ্যান্ড্রয়েড হলো গুগল কর্তৃক তৈরি একটি অপারেটিং সিস্টেম যা অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রজেক্ট (AOSP)-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার কোড যেকোনো ব্যক্তি পড়তে পারে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোন এর নানা সংস্করণ ব্যবহার করে। প্লে স্টোর সুবিধা সম্বলিত বেশিরভাগ বিক্রি হওয়া ফোনে গুগলের নির্দেশিত শর্তাবলী প্রযোজ্য থাকে, যেগুলোকে সার্টিফাইড অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস বলা হয়।
এই পার্থক্যটি পরবর্তীতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুগলের হেল্প পেজ অনুযায়ী কিছু নতুন নিয়ম কেবল সার্টিফাইড ডিভাইসের ওপর প্রযোজ্য এবং AOSP ও নন-সার্টিফাইড ডিভাইসগুলো এর আওতামুক্ত (Android Help)।
অ্যান্ড্রয়েড বাই-ডিফল্ট কীভাবে আপনাকে সুরক্ষা দেয়
অ্যান্ড্রয়েডের নথিপত্রে বেশ কয়েকটি সিকিউরিটি লেয়ার বা স্তরের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এগুলো একসাথে কাজ করে, যাতে একটি স্তর ব্যর্থ হলেও আক্রমণকারী সবকিছু হাতিয়ে নিতে না পারে।
- অ্যাপ স্যান্ডবক্স (App sandbox): অ্যান্ড্রয়েড প্রতিটি অ্যাপকে একটি ইউনিক ইউজার আইডি দেয় এবং সেটিকে নিজস্ব প্রসেসে রান করায়; এবং সিস্টেমটি কার্নেল-লেভেল স্যান্ডবক্স তৈরি করতে এটি ব্যবহার করে (Android Open Source Project)। বাই-ডিফল্ট একটি অ্যাপ কেবল নির্দিষ্ট কিছু সিস্টেম রিসোর্সে পৌঁছাতে পারে এবং অন্য অ্যাপের ব্যক্তিগত ডাটা পড়তে পারে না (AOSP)।
- পারমিশন বা অনুমতি (Permissions): ক্যামেরা, লোকেশন, ব্লুটুথ, এসএমএস এবং নেটওয়ার্ক এক্সেসের মতো সুরক্ষিত ফিচারগুলোতে পৌঁছানোর জন্য অ্যাপের নিজস্ব পারমিশনের ঘোষণার প্রয়োজন হয়। অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ থেকে অ্যাপ ব্যবহারের সময় আপনি এটি অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। আপনার ফোন নম্বর, হার্ডওয়্যার বা নেটওয়ার্ক সনাক্তকারীর মতো বিবরণগুলোতে অ্যাপ এক্সেস না চাইলে এবং আপনি তা না দিলে সেগুলো নাগালের বাইরেই থাকে (AOSP)।
- SELinux: এটি হলো একটি বাধ্যতামূলক এক্সেস কন্ট্রোল যা রুট হিসেবে চলা প্রসেসসহ প্রতিটি প্রসেসের ওপর প্রযোজ্য হয় (AOSP)।
- ভেরিফাইড বুট (Verified boot): হার্ডওয়্যার-সুরক্ষিত রুট থেকে শুরু করে সিস্টেম চালুর প্রতিটি ধাপ পরের ধাপটিকে যাচাই করে নেয় এবং ফোনকে পুরোনো সংস্করণে ফিরে যেতে বাধা দেয়। অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ থেকে আক্রান্ত বা হ্যাক হওয়া ডিভাইস চালু হওয়া থামাতে এটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয় (AOSP)।
- হার্ডওয়্যার-সমর্থিত কী স্টোরেজ: অ্যান্ড্রয়েড এমন একটি কী-স্টোর সুবিধা দেয় যেখানে ক্রিপ্টোগ্রাফিক কী বা সংবেদনশীল তথ্য একটি নিরাপদ পরিবেশে সংরক্ষিত থাকে (AOSP)।
- গুগল প্লে প্রটেক্ট (Google Play Protect): দৈনন্দিন হালকা স্ক্যানিং সহ এটি উৎসের কথা না ভেবে ফোনের সব অ্যাপ পরীক্ষা করে। এটি ক্ষতিকারক অ্যাপ সরিয়ে ফেলতে বলে, সবচেয়ে খারাপ অ্যাপগুলোকে নিষ্ক্রিয় বা রিমুভ করে দেয় এবং গুগলের প্লে স্টোরের বাইরে থেকে ইনস্টল করা অ্যাপগুলোকে ক্ষতিকারক ডেটাবেসের সাথে মিলিয়ে ও অন-ডিভাইস মেশিন লার্নিং দিয়ে পরীক্ষা করে। চরম ক্ষেত্রে এটি ইনস্টলেশন আটকে দেয় (Google for Developers)।
- প্রাইভেট স্পেস (Private space): সংবেদনশীল অ্যাপগুলোর জন্য একটি আলাদা প্রোফাইল, যা আপনি ফোনের বাকি অংশের বাইরে স্বাধীনভাবে লক ও আনলক করতে পারবেন। এর অ্যাপগুলো কোনো ডাটা কপি না করে একদম নতুন ইনস্টল হিসেবে শুরু হয় এবং লক থাকা অবস্থায় রিসেন্টস, নোটিফিকেশন, সেটিংস ও অন্যান্য অ্যাপের কাছ থেকে অদৃশ্য থাকে। একটি ডিভাইসে কেবল একটিই প্রাইভেট স্পেস থাকতে পারে এবং আনলক থাকা অবস্থাতেই কেবল এটি কাজ করে। এর নথিপত্রে এটি অ্যান্ড্রয়েড ১৫-এর সাথে যুক্ত বলা হয়েছে (AOSP)। এটি একটি ফোনে অ্যাপগুলোকে আলাদা করে ঠিকই, তবে এটি আপনার আনলক করা ফোন হাতে পাওয়া কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নয়।
একটি বিষয় জানা জরুরি: অ্যান্ড্রয়েডে প্রতিটি অ্যাপ ডিজিটালভাবে সাইন করা থাকা বাধ্যতামূলক, তবে এটি সেলফ-সাইন্ড সার্টিফিকেট গ্রহণ করে এবং সার্টিফায়িং অথরিটির বিরুদ্ধে তা পরীক্ষা করে দেখে না (AOSP)। একটি বৈধ স্বাক্ষর কেবল নিশ্চিত করে যে ডেভেলপার সাইন করার পর অ্যাপটিতে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি; কিন্তু এটি ডেভেলপার কে তা প্রকাশ করে না।
আপডেট নির্ধারণ করে আপনার ফোন কতটা নিরাপদ থাকবে
সফটওয়্যারে ত্রুটি বা দুর্বলতা থাকে, আর সেই আপডেট ফোনে পৌঁছালেই কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। গুগল প্রতি মাসে অ্যান্ড্রয়েড সিকিউরিটি বুলেটিন প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের অক্টোবরের বুলেটিনে (যা ৫ অক্টোবর প্রকাশিত এবং ৮ অক্টোবর হালনাগাদ করা হয়েছে) ২৫টি দুর্বলতার তালিকা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৭টি আশঙ্কাজনক (Critical) এবং ১৮টি উচ্চ (High) ঝুঁকিপূর্ণ। সবচেয়ে মারাত্মক দুর্বলতাটি ব্যবহারকারীর কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই একজন স্থানীয় আক্রমণকারীকে বাড়তি প্রিভিলেজ বা সুবিধা এনে দিতে পারে, তবে কোনোটিরই অপব্যবহারের খবর পাওয়া যায়নি। এটি অ্যান্ড্রয়েড ১৪ থেকে ১৭ পর্যন্ত কভার করে (AOSP)।
আপনি এই সিকিউরিটি ফিক্সগুলো পাবেন কি না তা আপনার ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানির ওপর নির্ভর করে। Pixel ফোনের ক্ষেত্রে গুগল জানায় যে Pixel 8 এবং এর পরবর্তী প্রতিটি মডেল ইউএস গুগল স্টোরে লঞ্চের তারিখ থেকে ৭ বছরের ওএস এবং সিকিউরিটি আপডেট পাবে। Pixel 6, 7 সিরিজ এবং Pixel Fold ৫ বছর সাপোর্ট পায়; আর Pixel 5a এবং পূর্ববর্তী মডেলগুলো আর কোনো আপডেট পায় না (Google, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬)। আমরা কেবল পিক্সেলের নীতিমালা যাচাই করেছি। অন্যান্য ব্র্যান্ড তাদের নিজস্ব নীতি প্রকাশ করে এবং কিছু ফোন অনেক কম সময় সাপোর্ট পায়।
যে ফোনটি আর সিকিউরিটি আপডেট পায় না, সেটিতে সর্ব শেষ প্যাচের পর আবিষ্কৃত হওয়া প্রতিটি ত্রুটি থেকে যায়। এই পেজে থাকা অন্য কোনো সেটিংসই সেই ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারে না।
অ্যাপ ইনস্টলের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের পরিবর্তন
সার্টিফাইড ডিভাইসে ইনস্টল করা অ্যাপগুলোর জন্য গুগল ডেভেলপার ভেরিফিকেশন যুক্ত করছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গুগলের নিজস্ব পেজগুলোতে যা বলা হয়েছে তা নিচে দেওয়া হলো:
- কোথায় এবং কখন: ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ডের অংশগ্রহণকারী স্টোরগুলোর অ্যাপের জন্য ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে এটি বলবৎ হয়েছে। ২০২৭ সালে বিশ্বব্যাপী চালুর পরিকল্পনা রয়েছে (Android Developers)।
- কী ঘটে: অননুমোদিত বা আনভেরিফাইড ডেভেলপারের অ্যাপ সেই স্টোরগুলো থেকে ইনস্টল বা আপডেট করা যাবে না। আপনি একটি নোটিফিকেশন দেখতে পাবেন এবং অ্যাপটি ইনস্টল হবে না (Android Help)।
- এটি কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়: একটি উন্নত প্রসেস (Advanced flow) বা ডেভেলপার টুল ADB-র মাধ্যমে অসংবন্ধিত অ্যাপগুলো এখনো ইনস্টল করা যেতে পারে। অ্যাডভান্সড ফ্লো হলো সিকিউরিটি চেক এবং প্রায় একদিনের অপেক্ষার সময় সম্বলিত একটি এককালীন সেটআপ, যা গুগল জানিয়েছে প্রতারকদের ঠেকানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে—যারা মানুষকে পরামর্শ দিয়ে সিকিউরিটি অপশন বন্ধ করায়। আপনি এটি ৭ দিন বা অনির্দিষ্টকালের জন্য চালু রাখতে পারেন, এবং অননুমোদিত অ্যাপগুলোতে এখনো “Install Anyway” অপশনসহ সতর্কবার্তা দেখানো হয় (Android Developers)।
- শখের ডেভেলপারগণ: আইডি ছাড়াই একটি ফ্রি লিমিটেড ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাকাউন্ট খোলা যায় যা সর্বোচ্চ ২০টি ডিভাইসে অ্যাপ শেয়ারের সুযোগ দেয়।
আপনার জন্য এর অর্থ নির্ভর করে আপনি কীভাবে অ্যাপ ইনস্টল করেন তার ওপর। আপনি যদি কেবল গুগল প্লে-তেই থাকেন, তবে আপনার কোনো পরিবর্তন চোখে পড়বে না। আপনি যদি অন্য উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল করেন, তবে অতিরিক্ত কিছু ধাপের মুখোমুখি হতে হবে, যা ২০২৭ সালে আরও বেশি দেশে পৌঁছে যাবে। এর ভালো-মন্দ নিয়ে সমালোচক ও সমর্থকদের মতামত ভিন্ন। গুগল এটিকে স্ক্যাম এবং ম্যালওয়্যারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছে। এটি কতটা কার্যকর তার কোনো স্বাধীন মূল্যায়ন আমরা পাইনি, তাই কোনো চূড়ান্ত দাবি করছি না।
অ্যান্ড্রয়েডের সুরক্ষা যা কাভার করে না
- আপনার দেওয়া পারমিশন: স্যান্ডবক্স একটি অ্যাপকে অন্য অ্যাপের তথ্য পড়া থেকে আটকায়। কিন্তু আপনি যে অ্যাপকে লোকেশন এক্সেস দিয়েছেন সেটি যে ওই ডাটা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবে তা নয়।
- কারো প্ররোচনায় প্রলোভিত হওয়া: সাইডলোডিংয়ের অপেক্ষার সময় রাখার পেছনে গুগলের নিজস্ব কারণ ছিল স্ক্যাম রোধ করা, যেখানে কেউ আপনাকে সিকিউরিটি সেটিংস বন্ধ করতে বাধ্য করে। আপনি নিজে তা বন্ধ করলে কোনো সেটিংস আপনাকে বাঁচাতে পারবে না।
- পুরোনো সফটওয়্যার: আপডেট বন্ধ হয়ে গেলে ওপরের সুরক্ষাব্যবস্থাগুলো জানা কিন্তু অরক্ষিত রয়ে যাওয়া ত্রুটির ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে।
- স্ক্যানারের সীমাবদ্ধতা: প্লে প্রটেক্ট ক্ষতিকারক স্যাম্পল মিলিয়ে দেখে এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে। কিন্তু কোনো স্ক্যানারই সব ধরনে হুমকি শতভাগ শনাক্ত করতে পারে না।
সাধারণ কিছু ভুল ধারণা
“সাইডলোডিং নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।” গুগলের পেজগুলোতে অ্যাডভান্সড ফ্লো, ADB এবং শখের অ্যাকাউন্টের কথা বলা হয়েছে। পরিবর্তনটি কেবল অননুমোদিত ডেভেলপারের অ্যাপ ইনস্টলে কিছু নতুন ধাপ যুক্ত করে; সুবিধাটি তুলে নেয় না।
“অ্যাপ স্টোরে থাকলেই তা নিরাপদ।” স্টোরের সিকিউরিটি চেক ঝুঁকি কমায়। তবে অ্যাপের পারমিশন এবং আচরণ যাচাই করার দায়িত্ব এখনো আপনার।
“আমার ফোনটি ঠিকঠাক চলছে, তাই এটি নিরাপদ।” একটি ফোন খুব চমৎকারভাবে চলতে পারে এবং তবুও সেটির সিকিউরিটি আপডেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়ে থাকতে পারে।
আপনার করণীয়
এগুলো সর্বনিম্ন পরিশ্রমে সর্বোচ্চ সুবিধার ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে:
১. আপডেটের অবস্থা পরীক্ষা করুন: Settings থেকে System, তারপর Software update-এ যান (ব্র্যান্ডভেদে মেনু ভিন্ন হতে পারে)। সিকিউরিটি প্যাচের তারিখটি খেয়াল করুন, তারপর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সাইটে আপনার মডেলটির সাপোর্টের মেয়াদ কতদিন তা দেখে নিন।
২. ফোন সিকিউরিটি আপডেট না পেলে তা বদলে ফেলার পরিকল্পনা করুন: পরিবর্তন করার আগ পর্যন্ত ফোনটিকে কেবল কম-ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করুন এবং এতে ব্যাংকিং বা সংবেদনশীল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
৩. বিশ্বস্ত স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টল করুন এবং অপ্রয়োজনীয় পারমিশন বাতিল করুন: একটি ফ্ল্যাশলাইট অ্যাপের আপনার কন্টাক্ট লিস্ট চাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। অ্যান্ড্রয়েড ১৩ ও পরবর্তী ভার্সনে প্রাইভেসি সেটিংস Settings > Security and privacy-তে থাকে; এবং অ্যান্ড্রয়েড ১২ ও পূর্ববর্তী ভার্সনে Privacy-র নিচে থাকে, যদিও মেনুর বিন্যাস ব্র্যান্ডভেদে আলাদা হতে পারে (Android Help)।
৪. প্লে প্রটেক্ট সবসময় চালু রাখুন: এটি অতিরিক্ত একটি স্ক্যানিং লেয়ার যুক্ত করে যা যেকোনো উৎসের অ্যাপেই কাজ করে।
৫. কেউ আপনাকে সিকিউরিটি সেটিংস বন্ধ করতে বললে সঙ্গে সঙ্গে থেমে যান: গুগলের ওই একদিনের অপেক্ষার সময়টি মূলত এই ধরণের প্রতারণার ছক ভাঙতেই তৈরি করা হয়েছে; কারণ প্রকৃত কোনো সাপোর্ট টিম কখনোই আপনাকে নিরাপত্তা বন্ধ করতে বলবে না।
৬. আপনি যদি বাইরে থেকে অ্যাপ ইনস্টল করেন, তবে প্রয়োজন হওয়ার আগেই অ্যাডভান্সড ফ্লো সম্পর্কে জেনে নিন: ভেবেচিন্তে এটি চালু করুন এবং কাজ শেষে আবার বন্ধ করার কথা বিবেচনা করুন।
এই পেজটি সাধারণ তথ্যমাত্র, নির্দিষ্ট কোনো পরিস্থিতির জন্য পেশাদার পরামর্শ নয়। আপনার জন্য এর কতটা প্রয়োজন তা বিচারে আমাদের থ্রেট মডেলিং (Threat modeling) পেজটি দেখুন।
উৎসসমূহ (Sources)
- Android security features, অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রজেক্ট, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬
- App security, অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রজেক্ট, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬
- Verified Boot, অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রজেক্ট, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬
- Android Security Bulletin, October 2026, অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রজেক্ট, অক্টোবর ২০২৬
- Private space, অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রজেক্ট, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬
- Learn about Android security and privacy settings, অ্যান্ড্রয়েড হেল্প, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬
- On-device protections, প্লে প্রটেক্ট, গুগল ফর ডেভেলপারস, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬
- Learn when you’ll get software updates on Google Pixel phones, পিক্সেল ফোন হেল্প, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬
- Android developer verification: frequently asked questions, অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপারস, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬
- Learn about Android developer verification, অ্যান্ড্রয়েড হেল্প, তথ্য সংগ্রহ অক্টোবর ২০২৬